
মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম
মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম
সকল লেখা

ঝরনার নাম তোজেংমা
ঢাকা থেকে রাতের বাসে ছুটি খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা। যানজটমুক্ত থাকায় ভোর সাড়ে ৪টায় পৌঁছে যাই। আগে থেকে গেস্টহাউসে রুম বুকিং থাকায় বাড়তি ঝামেলা না করে সোজা রুমে। গাইডের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে বিশ্রামও হয়ে যায়। অতঃপর সকাল ৯টায় রুম থেকে বের হয়ে নাশতা শেষে বাইকে ছুটি আলমগীর টিলা—২০ মিনিটের পথ।

পাহাড়ের বুনো সৌন্দর্য রাইক্ষং
পাহাড়ের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য দেখার সুবর্ণ সময় বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তকাল। সেই পাহাড় যদি হয় তিন পার্বত্য জেলায়, তাহলে তো কথাই নেই। এই সময়গুলোতে পাহাড় তার রূপের ডালি মেলে ধরে। চারপাশে সবুজ আর সবুজ। এবার আমাদের অভিযান ছিল রাঙামাটি জেলার গহিনে সৌন্দর্যের আধার রাইক্ষং ঝরনা। দলে ছিলাম ছয়জন।

রোমাঞ্চকর ট্রেইল মূরনখল
পথ চলতে চলতে ফেনীর নিজকুঞ্জরা গ্রামে বন্ধু রাশেদের পরিত্যক্ত বাড়িতে এসে থামতে হলো। পূর্বঘোষিত ডিনার সেখানে শেষ করতে হলো। এরপর ভরা চান্দের মিঠা মিঠা আলোয় ভাইরাল গায়ক হুমায়ূন সরকারের সঙ্গে আমাদের আড্ডা চলল রাত ১১টা পর্যন্ত। তারপর গাড়ি স্টার্ট নিল গন্তব্যের উদ্দেশে।

রোমাঞ্চকর গলাচিপা খুমে
এপারে খাগড়াছড়ির তবলছড়ি, ওপারে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। সারা রাত বাস জার্নি করে সকালে ডাকবাংলোতে নামতেই আমাদের স্বাগত জানালেন স্থানীয় ভ্রমণবান্ধব যুবক শাহজাহান। আলাপচারিতা শেষে আমরা তাঁর বাড়ি যামিনীপাড়া গ্রামের পথে হাঁটতে শুরু করি।

ছুটির দিনে সন্তোষপুর
ঢাকা থেকে বেশি দূরে নয় সন্তোষপুর। হাজার হাজার রাবারগাছ আছে এখানে। সেই বনে আছে বন্য বানরের লুকোচুরি। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নওগাঁও ইউনিয়ন সন্তোষপুরে এই রাবার বন। এক সাংবাদিক বন্ধুর পাঠানো ছবি দেখে উৎসাহী হয়ে উঠি যাওয়ার জন্য।

ঈদের ছুটিতে মেঘ-পাহাড়ের দেশে
শুভ্র মেঘের ভেলা উড়ে যায় আপন গতিতে। কখনো আবার কালো মেঘরাশি জমাট বেঁধে থাকে দূর আকাশে। দৃষ্টির সীমায় ধরা পাহাড়ের ঢেউ। ঝিরঝির বাতাসের আলিঙ্গন। অপার্থিব সৌন্দর্যের সূর্যোদয়ের নান্দনিক দৃশ্য দেখার ফাঁকে, হঠাৎ মেঘের আবরণে শরীর ঢেকে যাওয়া—এমনই সব নয়নাভিরাম দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে এলাম...

চন্দ্রমল্লিকার বাগান থেকে ভাইরাল সড়কে
চললাম পাকিস্তান হাট! না, এটা পাকিস্তানে নয়। সাভার নামাবাজার ব্রিজ পার হয়ে রূপনগর গ্রাম। গ্রামের রূপ আমাদের থমকে দেয়। নির্বাক দৃষ্টিতে কিছুটা সময় তাকিয়ে থেকে আবারও চললাম। চলতে চলতে চৌঠাইল পার হয়ে আড়ালিয়া। এই চলার পথেও চোখের সঙ্গী ছিল সড়কের উভয় পাশের নয়নাভিরাম প্রকৃতি।

ঝিটকায় এক রাত
শীতে খেজুর রসের তৃষ্ণা বেশ তাড়া করে। এবার সেই তাড়া গিয়ে ঠেকে শিকদারপাড়া হাজারীপল্লিতে। আমরা ছুটলাম মানিকগঞ্জের ঝিটকায়। যেতে যেতে মাঝখানে নবগ্রামে ব্রেক মেরে মান্তার মেলায় ঢুকে হালিম, রুটি, মিষ্টি আর শুকনো বালুসাই খাওয়া হলো। গ্রামীণ মেলা মানে মজাদার সব খাবারের সমাহার।

শীতের মৌসুমে উত্তরবঙ্গের পথে-প্রান্তরে
বারো মাসই উত্তরবঙ্গের যেকোনো জেলা ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। তবে শীতে উত্তরবঙ্গ ভ্রমণে আলাদা অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়। যাঁরা শীত উপভোগ করতে চান, তাঁরা ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত যেতে পারেন। হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় পুরো রংপুর বিভাগ অর্থাৎ উত্তরবঙ্গে শীতের প্রকোপ বেশি থাকে।...

ঘুরে আসুন কাউয়ার চর
এক বন্ধুকে নিয়ে ভীষণ সংগোপনে কুয়াকাটার বাসে উঠে পড়লাম ঢাকা থেকে। পাখিডাকা ভোরে নেমে পড়লাম কুয়াকাটার কিছু দূর আগে আলীপুর বাজারে। কুয়াকাটার এক ভ্রমণবন্ধু আগেই স্থানীয় এক হোটেলে রুম বুক করে রেখেছিলেন বলে বাড়তি ঝামেলায় পড়তে হয়নি।

বয়সী বটের নিচে চড়ুইভাতি
একটি প্রাচীনতম বটবৃক্ষ মানে কালের সাক্ষী। পুরোনো কোনো স্থাপনা দেখলে যেমন মানুষ নস্টালজিয়ায় ভোগেন, তার চেয়ে বেশি মানুষ স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন, যদি কোনো শতবর্ষী গাছের ছায়ায় যান।

তুক-অ-দামতুয়া ঝরনায় রহস্যময় সময়
তুক-অ-দামতুয়া নামটির মাঝেই রয়েছে অদ্ভুত এক রহস্য। তার ওপর এটি একটি ঝরনার নাম। এমনিতেই পাহাড়প্রেমীদের ছোট-বড় যেকোনো ঝরনার প্রতি রয়েছে বিশেষ দুর্বলতা। সেটা যদি হয় দৈত্যাকার, তাহলে তো কথাই নেই।

শরতের শেষ কাশফুল
ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগিয়ে চলেছে শরৎ। কাশফুলের যৌবনেও পড়ছে ভাটা। তারপরেও শরৎ মানেই নীল আকাশের বুকে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের নিচে খানিক ধূসর কাশফুলের জন্য মন উড়ু উড়ু করবেই। সেই উড়ু উড়ু ভাব কাটাতে এক পড়ন্ত দুপুরে মোটরসাইকেলে সওয়ার হয়ে ছুটে চললাম ধামরাই উপজেলার কাইজ্জার চর—ঢাকার একেবারে পাশে।

শরতে শাপলা বিলে
ঢাকা থেকে খুব বেশি দূরে নয়। সাকল্যে ১০৫ কিলোমিটারের মতো পথ। বলছি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার গলর বিলের কথা। প্রায় ৭৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বিলে রয়েছে প্রচুর লাল শাপলা। এই সংবাদ শোনার পর এক সন্ধ্যায় আমাদের বন্ধু রিয়াদ আশ্রাফের গাড়িতে রওনা দিলাম গলর বিল দেখব বলে।

লাল শাপলার রাজ্যে
‘সাতলা’ নামের মাঝেই লুকিয়ে আছে এক অন্যরকম আদিমতা। আধুনিকতার আড়ালে আজ অনেক বুনো সৌন্দর্যই বিলীন। তবে নয়াকান্দী গ্রামটা এখনো তার ব্যতিক্রম। হ্যাঁ বলছি, বরিশাল জেলার উজিরপুরের নয়াকান্দী গ্রামের সাতলা বিলের কথা।

ঢাকার পাশে পদ্মাপাড়ে
পরদিন শুক্রবার। তাই বৃহস্পতিবার রাতে ঘুম হারাম। রাতভর এপাশ-ওপাশ করতে করতে ভোর চারটা। এর মাঝেই মোবাইল ফোন বাজতে শুরু করে। অমনি বিছানা ছেড়ে শুরু হলো বের হওয়ার জোর চেষ্টা।
